দৈনিক নবতান
জনতার সংসদ

ভাঙ্গনের মুখে ৩ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ ২০ বসতঘর

0

সাইফুল ইসলাম: বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে চলা ইয়াংছা খালের ভাঙ্গনের কবলে পড়ে হারিয়ে যেতে বসেছে ইয়াংছা ফয়জুল উলুম হামিউচ্ছুন্নাহ হেফজখানা, নূরানী ও এতিম খানা। ইতিমধ্যে মাদ্রাসাটির দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশের অযুখানা ও টয়লেটসহ প্রায় ৩০শতক জায়গা নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। শুধু তাই নয়, খালের ইয়াংছা বাজার এলাকায় আরো প্রায় ২০ পরিবার ভাঙ্গনে মুখে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এখনি ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চলতি বর্ষায় মৌসুমেই মাদ্রাসা ভবনসহ বসতঘর উজান থেকে নেমে আসা পানির স্রোতের টানে খালে বিলিন হয়ে যেতে পারে। এতে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়বে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার প্রায় সাড়ে তিনশ কোমলমতি শিক্ষার্থী। ২০ বছরের পুরাতন এ ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতঘর রক্ষায় পার্বত্যমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপিসহ সরকারের জরুরী পদক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, ২০০০ সালের ১ জানুয়ারী উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ইয়াংছা কাঁঠালছড়া এলাকার কয়েকজন শিক্ষানুরাগী ফয়জুল উলুম হামিউচ্ছুন্নাহ হেফজখানা, নূরানী ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানেও এ প্রতিষ্ঠানটি ছাড়া ওই এলাকায় আর কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। সুনামের সাথে প্রতিষ্ঠানটির মাদ্রাসা, হেফজখানা, নূরানী ও এতিমখানা পরিচালনার মধ্য দিয়ে কোমলমতি শিশুদের মাঝে ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তার করে আসছে। স্থানীয়দের ও সরকারের বিভিন্ন বিভাগের সহায়তায় চলে মাদ্রাসাটি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় সাড়ে তিনশ শিশু শিক্ষার্থী অধ্যায়নরত আছে। পাশাপাশি মাদ্রাসাটিতে সকাল বেলায় পরিচালিত মোক্তবে ২ শতাধিক শিশু দ্বীনি শিক্ষা গ্রহণ করছে। ১২ জন শিক্ষক ও একটি সুন্দর পরিচালনা কমিটি দ্বারা মাদ্রাসাটি এগিয়ে চলছে। ২০১২ সাল থেকে মাদ্রাসাটির পশ্চিম পাশ ভাঙ্গনের কবলে পড়ে। বিশেষ করে গত দু বছরের প্রবল বর্ষণের ফলে ইয়াংছা খালের আগা থেকে নেমে আসা পানির স্রোতে মাদ্রাসাটি ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করে। এতে গত বছর অযুখানার একাংশ খালে ধসে পড়ে। চলতি মৌসুমে ধসে পড়েছে টয়লেটও। এছাড়া মাদ্রাসার একাডেমিক ভবনসহ অন্য ভবনগুলোও যে কোন মুহুর্তে খালে বিলীন হয়ে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, মাদ্রাসার আশপাশ এলাকার প্রায় ২০ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি ও বাঙ্গালী পরিবারের বসতঘর ভাঙ্গনের হুমকিতে রয়েছে।

ভাঙ্গনের বিষয়ে কথা হয় খাল পাড়ের বাসিন্দা আক্তার উদ্দিন, লক্ষী রানী দে, শান্তি বড়ুয়া ও ছামাছিং মার্মা বলেন, সম্প্রতি কয়েক দিনের টানা বর্ষণের ফলে বিভিন্ন জনের ফসলি জমি, বসতঘর ও একটি মাদ্রাসার একাংশ খালে বিলীন হয়ে গেছে।

তারা আরো জানান, টানা বর্ষণ শুরু হলে পাড়ের লোকজন আতংকে থাকেন, কখন না খালের ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি খালে বিলীন হয়ে যায়। বসতভিটা ছেড়ে অন্য কোথাও আশ্রয় নেওয়ার মত জমিও নেই তাদের। তাই দ্রুত খালটি ভাঙ্গন রোধে পার্বত্য মন্ত্রীর সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।

এদিকে মাদ্রাসা ও এতিমখানার পরিচালক মাওলানা আব্দুল মালেক জানায়, ইয়াংছা খালের পানির স্রোতের টানে গত দু বছরে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির অযুখানা ও টয়লেটসহ প্রায় ৩০ শতক জায়গা ভেঙ্গে গেছে। বর্তমানে মাদ্রাসা ভবনও ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে। নিজস্ব তহবিল না থাকায় ভাঙ্গনরোধে পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছেনা।

এই ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আপ্রুচিং মার্মা ও আনাই মার্মা এক বলেন, মাদ্রাসাটি ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ৭, ৮, ৯, ৪ ও ১নং ওয়ার্ডের একমাত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। মাদ্রাসা ও আশপাশ এলাকার বসতঘর রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া জরুরী হয়ে পড়েছে। তা না হলে মাদ্রাসা ও বসতঘরগুলো যে কোন মুহুর্তে খালে বিলীন হতে পারে।

এ বিষয়ে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাকের হোসেন মজুমদার বলেন, পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি সম্প্রতি ইয়াংছা বাজার এলাকায় খাল ভাঙ্গন পরিদর্শন করে ভাঙ্গন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.