দৈনিক নবতান
জনতার সংসদ

BREAKING NEWS

পানিসংকটে অসহায় ১২ হাজার বাসিন্দা

0

রাজধানীর খিলক্ষেতে লেক সিটি কনকর্ডের প্রায় ১২ হাজার বাসিন্দা তীব্র পানিসংকটে পড়েছে। কর্তৃপক্ষকে বারবার বিষয়টি জানালেও পানিসংকট নিরসনে নেওয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ।

সেখানকার একটি পানির পাম্প অকেজো হয়ে পড়ায় গত ১৬ অক্টোবর থেকে পানির এই সংকট আরো তীব্র হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার বাসিন্দারা দিনে আধাঘণ্টাও পানি পাচ্ছে না। গতকাল বুধবার সরেজমিনে সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, এই অমানবিক চিত্র।
লেক সিটি কনকর্ডের আওতায় বিভিন্ন নামে সেখানে ১৬ তলা ১৩টি ভবনে দুই হাজারের বেশি ফ্ল্যাট রয়েছে। এসব ফ্ল্যাটে বাস করছে প্রায় ১২ হাজার মানুষ। এই বাসিন্দাদের পানির চাহিদা মেটাতে মাধবী ভবনের সামনে এবং স্বপ্ননীড় ভবনের পাশে দুটি পানির পাম্প বসানো হয়। পাম্প দুটি প্রতিদিন ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা চালু রাখা গেলে সেখানকার পানির চাহিদা মেটানো যেত। কিন্তু নিয়মিত সার্ভিসিংয়ের অভাবে আগে পাম্প দুটি প্রায়ই বিকল হয়ে পড়লে পানির সংকটে পড়ত সেখানকার বাসিন্দারা।

বাসিন্দাদের তোপের মুখে এ থেকে উত্তরণে গত বছরের নভেম্বরে আরেকটি পাম্প বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর এক বছর হয়ে গেলেও ওই পাম্প আর বসানো হয়নি। উল্টো মাধবী ভবনের সামনের পাম্পটি অকেজো হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানায়, কর্তৃপক্ষ পাম্পটি মেরামত করতে গেলে সেটি মাটির নিচে চাপা পড়ে। পরে কর্তৃপক্ষ ফ্ল্যাট মালিকদের নোটিশ দিয়ে জানায়, ওই পাম্পটি অকেজো হয়ে গেছে।

বিপুলসংখ্যক বাসিন্দার পানির চাহিদা মেটাতে বর্তমানে একটি পাম্পের পানির সঙ্গে প্রতিদিন ঢাকা ওয়াসার আট থেকে ১৪টি গাড়ি পানি সরবরাহ করছে, কিন্তু চাহিদার তুলনায় এটি খুবই অপ্রতুল। ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন তলাভেদে পাঁচ থেকে ৪০ মিনিট পানি পাচ্ছে সেখানকার বাসিন্দারা। এ পরিস্থিতিতে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরা নাজুক অবস্থায় পড়েছেন।

বাসন্তী ভবনের বাসিন্দা শওকত আলী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যারা আট তলার নিচে আছি, সারা দিনে আধাঘণ্টার মতো পানি পাই। যারা এর ওপরে আছে তারা পায় মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট। এই সময়ে যেটুকু পানি রাখা যায় তা দিয়ে কোনো মতে চলতে হচ্ছে।’ একই রকম ভোগান্তির কথা জানিয়ে বৈশাখী ভবনের ১৪ তলার বাসিন্দা এ কে এম হাবিবুর রহমান বলেন, ‘নামাজ পড়েছি; কিন্তু পানির অভাবে আজ গোসল করতে পারিনি। এবার বুঝুন কেমন সমস্যার মধ্যে আছি।’

মাধবী ভবনের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ জাহাঙ্গীর ও নূরুল আমিন গতকাল বিকেলে তাঁদের বাসার পরিস্থিতি দেখাতে নিয়ে যান এই প্রতিবেদককে। সেখানে গিয়ে দেখা গেল, পানির কল ছেড়ে দিলেও ট্যাপ দিয়ে বের হচ্ছে না এক ফোঁটা পানি।

তাঁরা জানান, বাসিন্দাদের পাশাপাশি ওখাকার নির্মাণাধীন ভবন, স্কুল, মসজিদ, শপিং কমপ্লেক্স, বাণিজ্যিক নার্সারি, রেস্টুরেন্ট, জিমনেসিয়াম ও বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের প্রায় ৬০০ শ্রমিক এই একই পাম্পের পানি ব্যবহার করছে। চাহিদার তুলনায় কর্তৃপক্ষ পানির পাম্প বাড়ায়নি। যে দুটি পাম্প রয়েছে তার মধ্যে একটি নষ্ট হয়ে পড়ায় দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। রান্নাবান্না, গৃহস্থালির কাজ কোনোটার জন্যই পাওয়া যাচ্ছে না পানি। এ কারণে অনেক বাসিন্দা কয়েক দিন বাসায় রান্নাবান্নাও করছে না। স্বপ্ননীড় ভবনের বাসিন্দা জাকিয়া বেগম বলেন, ‘সকালে ও রাতে একটু একটু পানি আসে। পানির অভাবে সীমাহীন কষ্ট হচ্ছে আমাদের।’

লেক সিটি কনকর্ড অ্যাপার্টমেন্ট মালিক সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানে ভয়াবহ পানির সংকট চলছে। কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি, এই সংকট দ্রুত সমাধানের।’

বাসন্তী ভবনের পেছনে ছোট একটি পাম্প বসানো হচ্ছে দেখিয়ে কনকর্ড গ্রুপের নির্মাণ বিভাগের অতিরিক্ত ইঞ্জিনিয়ার মো. ইউনূস বলেন, ‘পানিসংকট সমাধানে আমাদের লোকজন কাজ করছে। বৃহস্পতিবার (আজ) এই পাম্পটি চালু করা যাবে বলে আশা করছি।’

ছোট এই পাম্প দিয়ে পানি তুলে বর্তমান সমস্যার সমাধান করা যাবে কি না—জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দিতে পারেননি।

সংকট ও সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে লেক সিটি কনকর্ডের জেনারেল ম্যানেজার দেলোয়ার হোসেন জানান, মোবাইল ফোনে তিনি কিছু বলবেন না। অফিসে গেলে এ বিষয়ে কথা বলবেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.