দৈনিক নবতান
জনতার সংসদ

BREAKING NEWS

গ্রাম্য সালীশের সিদ্ধান্তে ধর্ষকের সাথে অন্ত:সত্ত্বা কিশোরীর বিয়ে

0

স্টাফ রিপোটার : জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গ্রাম্য সালীশ বৈঠকের সিদ্ধান্তে দুই সন্তানের জনকের সাথে ৬ মাসের অন্ত:সত্ত্বা সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রী (১৩)এর বিয়ে হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার(১৭ মে) গভীর রাতে সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের সেঙ্গুয়া গ্রামে অন্ত:সত্ত্বার নিজ বাড়ীতে গ্রাম্য সালীশি সিন্ডিকেটের বৈঠকের মাতাব্বরদের এক সিদ্ধান্তে এ বিবাহ পড়ানো হয়েছে। এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার(১৯ মে) বিকেলে কিশোরীর পিতা চান মিয়া ও মাতা এবং ভাই সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। ধর্ষন ঘটনাকে ধামা চাপা দিতে এ বিয়ে পড়ানো হয়েছে বলে স্থানীয় জনগনের মাঝে নানা সমালোচনার ঝড় বইছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের সেঙ্গুয়া গ্রামের লেবু মিয়ার ছেলে ভাংগারী ব্যাবসায়ী আল আমিন(৩০) এর সাথে একই গ্রামের পাশের বাড়ীর ভ্যান চালক চাঁন মিয়ার সানাকৈইর শেখ খলিলুর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মেয়ে(১৩) এর সাথে অবৈধ সর্ম্পক গড়ে তোলে অনৈতিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়ে অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে। ওই শিক্ষাথী ক্রমশ: মাতৃত্বের লক্ষন বুঝতে পারে শিক্ষাথীর পরিবার। পরে শিক্ষাথীকে নানা জিজ্ঞাসাবাদে আল আমিন এর সাথে অবৈধ সম্পকে ৬ মাসের অন্ত:সত্ত্বা হয়েছে বলে পরিবার পরিজন কে জানায়। পরে গত মঙ্গলবার গভীর রাতে উভয় পক্ষের মাঝে সমঝোতার জন্য অন্ত:সত্ত্বা কিশোরীর নিজ বাড়ীতে গ্রাম্য সালীসের সিদ্ধান্তে চার লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করে নিকাহ রেজিষ্টী করে ছেলের বাড়ীতে পাঠানো হয়েছে।
উক্ত গ্রাম্য সালীশ বেঠকে মহাদান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আঃ রহিম বাদশা ভূঁইয়া নেতৃত্বে স্থানীয় মাতাব্বর দলু মিয়া সভাপতিত্ব করেন।এ সময় মাতাব্বর ইসমাইল হোসেন,বাঘা, বল্লা, হাবিবুর, ফারুক ভূঁইয়া , বন্দুক আলী ও নজরুল ইসলাম মুন্সি প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গ্রাম্য মাতাব্বরদের এক সিদ্ধান্তে মহাদান ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী আব্দুর রউফ লিপন এর সহকারী কাজী সানাকইর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিএম কলেজের অফিস সহকারী ফজলুল হকের মাধ্যমে চার লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করে বিবাহ নিবন্ধন করানো হয়েছে। বিবাহটি পড়ান স্থানীয় মৌলভী মোহাম্মদ আলী।
এ ব্যাপারে কিশোরী নিকাহকারী ভাংগারী ব্যাবসায়ী আল আমিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে মহাদান ইউনিয়নের কাজী আব্দুর রউফ লিপন বলেন, সানাকৈইর টেকটিক্যাল এন্ড বিএম কলেজের অফিস সহকারী ও কথিত আমার সহকারী কাজী হিসেবে ফজলুল হক যদি পরিচয় দিয়ে কাবিন করে থাকে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করবো।
জানতে চাইলে মহাদান ইউনিয়নের বিট পুলিশিংয়ের দায়িত্বে থাকা সরিষাবাড়ী থানার এস আই আবু জাফর এর কাছে কয়েকবার মোবাইলে ফোন করলে তার মোবাইল ফোনটি ব্যাস্থ পাওয়ায় বক্তব্য নেয়া যায়নি।
এ ব্যাপারে নিকাহ কারী ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,আমি লিটু ভাইয়ের কাছ থেকে বই এনেছি এবং বাদশা মেম্বারের কথামত রেজিস্ট্রি করেছি।
জানতে চাইলে ইউপি সদস্য আব্দুর রহিম বাদশা ভূঁইয়ার সাথে কথা হলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন,আমি সহ এলাকার মাতাব্বর গনকে নিয়ে বিয়ের কাবিন ও বিবাহ পড়াইয়া দিছি। তারা এখন ভালভাবে ঘর সংসার করিতেছে।
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার পরির্দশক ( তদন্ত)আব্দুল মজিদ জানান, এ ঘটনা সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা।

Leave A Reply

Your email address will not be published.