দৈনিক নবতান
জনতার সংসদ

বান্দরবানে ১৩টি পাড়া উচ্ছেদ হওয়া থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন

0
সাইফুল ইসলাম: বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
বান্দরবানে লামা উপজেলার সাংগু মৌজায় গোপনে ৫,৭৬০ একর জমিতে সাংগু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণার আদেশ বাতিল ও ১৩টি পাড়াসহ মৌজাবাসীকে উচ্ছেদ থেকে রক্ষার দাবিতে  প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি  প্রদান করেছে জনসাধারণ। ১৪ জুন সকাল ১১টায় বান্দরবান জেলা প্রশাসক বরাবরে হাজির হয়ে এ স্মারকলিপি প্রদান করেনে সাঙ্গু মৌজাবাসী।
পার্বত্য জেলা বান্দরবানে সাঙ্গু বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণার আদেশ বাতিল ও ১৩টি পাড়া উচ্ছেদ হওয়া থেকে রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করেছে স্থানীয়রা। বুধবার (১৪ জুন) সকালে বান্দরবান প্রেসক্লাব চত্বরে সাঙ্গু মৌজার শতাধিক নারী পুরুষ এই মানববন্ধনে অংশ নেয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন হেডম্যান কারবারি কল্যাণ পরিষদের সভাপতি হ্লাথোয়াই হ্লী মারমা, সাঙ্গু মৌজার হেডম্যান চ্যংপাত ম্রো, উক্যমং মারমা, তনয়া ম্রোসহ প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, বান্দরবানের লামা উপজেলার সাঙ্গু মৌজায় পাঁচ হাজার ৭৬০ একর ভূমিতে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ঘোষণা করা হলে ওই এলাকার ১৩টি পাহাড়ি বাঙালি পাড়ার প্রায় সাড়ে পাঁচ শ’ পরিবার উচ্ছেদ হয়ে যাবে। বর্তমানে ওই এলাকার মানুষ এখন উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। অবিলম্বে অভয়ারণ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিল করার আহ্বান জানান স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ২০১০ সালে বান্দরবানের লামা উপজেলার সাঙ্গু মৌজার পাঁচ হাজার ৭৬০ এখন ভূমি বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য ঘোষণা করে। দীর্ঘদিন পর বন বিভাগ এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শুরু করলে সেখানে বসবাসকারী লোকজন এখন উচ্ছেদ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।
পার্বত্য বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের ২৮৫ নং সাংগু মৌজায় পাহাড়ি ও বাঙালি সকলে শিক্ষায়-সংস্কৃতিতে কিছুটা অনগ্রসর হলেও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহাদ্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করে আসছে বলে জানিয়েছেন। এক সময়ে সাংগু মৌজা ভূমিদস্যুদের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত ছিল। সাধারণ মানুষকে প্রতি মুহূর্তে ভূমি হারানোর আতঙ্কে থাকতে হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মহানুভবতায় পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি হওয়ার ভূমিদস্যুদের দাপট কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ এখন নিরাপদে বসবাস করে আসছে। কিন্তু এই নিরাপদে ও শান্তিতে থাকার সময়ে এখন আবার বন বিভাগের বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য তৎপরতায় মানুষের মধ্যে উচ্ছেদ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন। পরিবেশ ও
বন মন্ত্রণালয়ের গেজেট বিজ্ঞপ্তি নং পবম (শা-৩)/১১/৯৩/১৯০ তারিখ ৭/৩/১৯৯৬ মূলে প্রথম দফায় ৫,৭৬০ একর জমিতে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় বলে জানান। সেই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ি ২০১০ সাল পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এর বন অধিশাখা-২ স্মারক নং পরম/বন শা-২/০২/বন্যপ্রানী অভয়ারণ্য/১৩/২০১০/২১২ তারিখ ৪-৬-২০১০ বাস্তবায়নে পুনঃরায় প্রজ্ঞাপন জারী করে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় অভয়ারণ্য ঘোষণা করে। বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে এই ঘোষণা বাস্তবায়নে অভয়ারণ্য এলাকায় বসবাসরত শত শত পরিবারকে উচ্ছেদ হয়ে চলে যেতে হবে বলে ক্ষো্ভ প্রকাশ করেন।
ঐ এলাকার পাহাড়ীরা শত শত বছর ধরে প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে বসবাস করে আসছে বলে মানবন্ধনের আয়ো্জনে সবার সামনে তুলে ধরা হয় । বন এবং প্রকৃতি তাদের জীবন জীবিকার অংশ হিসেবে গন্য করা হয়। পাহাড়ে চাষাবাদের উপর তাদের জীবিকা নির্ভরশীল । যেমন জুম চাষের মাধ্যমে সারা বছরের খাবারের মওজুদ করা, পাহাড়ে মৌসুমি ফলন চাষের মাধ্যমে ছেলে-মেয়েদের পড়া-লেখার ভরণপোষন করা হয়। পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের কর্তৃক বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য প্রকল্পটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে লামা বন বিভাগ আগামী ১৫ জুন কক্সবাজারের চকোরিয়ার একটি বেসরকারী হোটেলে উচ্চ পর্যায়ের একটি বৈঠকের আহবান করেছে বলে জানা যায়। গৃহিত প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে পুরো সাঙ্গু মৌজার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে। সহজ সরল পাহাড়ী জুমিয়া পরিবার গুলো যাতে দু-বেলা, দু-মুঠো খেয়ে পরে বাঁচতে পারে সে লক্ষ্যে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ঘোষণার আদেশ বাতিল করা মানবিক বলে মনে করেছেন অনেকেই
Leave A Reply

Your email address will not be published.