দৈনিক নবতান
জনতার সংসদ

শৈল প্রপাত পর্যটন কেন্দ্রে হস্তক্ষেপ প্রয়োজন জেলা প্রশাসনের

0
সাইফুল ইসলাম: বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
শৈল প্রপাত বাংলাদেশের সকল জেলার “পাহাড়ি ঝর্না” প্রেমীদের কাছে অতি পরিচিত একটি পর্যটক স্পট। বান্দরবান জেলার রুমা-থানছি রাস্তার ৮ কিলোমিটার দূরে শৈল প্রপাত অবস্থিত।
এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপূর্ব সৃষ্টি।বছরের প্রায় সবসময়  ঝর্ণার হিমশীতল পানি এখানে বয়ে চলে। স্বাভাবিক ভাবে বর্ষাকালে এ ঝর্ণার দৃশ্য দেখা গেলেও ঝর্ণাতে নামা বেশ কঠিন ও বিপদজনক। বছরের বেশিরভাগ সময় দেশী-বিদেশী পর্যটকে ভরপুর থাকে এই শৈল প্রপাত। রাস্তার পাশেই শৈল প্রপাত এর অবস্থান হওয়ায় সকল পর্যটকদের আকৃষ্ট করে এটি। এখানে আসলে দুর্গম পাহাড়ের কোল ঘেঁষা আদিবাসী বম সমপ্রদায়ের সংগ্রামী জীবন প্রত্যক্ষ করা যায় খুব কাছ থেকে।
এখনে আশা পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য শৈল প্রপাতের পাশেই ছোট বড় মিলিয়ে গড়ে উঠেছে ৩০ থেকে ৩৫ টি ছোট বড় দোকান। দোকান গুলোতে পাহাড়ি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যগত পোশাক, গাছ ও বাশেঁর তৈরী তৈজসপত্র, ঘর সাজানোর জিনিসপত্রের হরেক রকম সম্ভার।মূলত এসব জিনিসপত্রের জন্যেই থানছি-রুমার অন্য সব পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার আগে এখানে কিছুটা সময় কাটান শৈল প্রপাত এর আকর্ষণীয় ঝর্ণার স্রোত ও পাহাড়িদের এসব জিনিসপত্র ক্রয় করে। তাছাড়া, পাহাড়ি বোম সম্প্রদায়ের কয়েকটি দোকান মিলবে প্রবেশ দারের দুই পাশে। দোকানিরা বিভিন্ন ফলের পসরা সাজিয়ে বসে থাকে। আগত পর্যটকরা চাইলে তাজা ফল কেটেও বিভিন্ন মসলা দিয়ে ছোট কৌটায় সালাদ পরিবেশন করা হয়।
 মূল ফটকের নিচেও আছে ৭-৮ টি পাহাড়ি হস্তশিল্পের দোকান যেখান থেকে পর্যটকরা পাহাড়িদের ঐতিহ্যবাহী পোশাক সংগ্রহ করতে পারে। ১৯৯১ সালের ১১ই জুলাই তৎকালীন জেলা প্রশাসক আতাউর রহমান মজুমদার এই পর্যটন কেন্দ্রটির প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন  করেন। একই বছরের ১৮ই নভেম্বর এই পর্যটন কেন্দ্রটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার এম সাখাওয়াত হোসেন, এনডিসি. পিএসসি। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া এই ঝর্না সময়ের স্রোতে অবহেলিত হয়ে পড়েছে জেলার পুরনো দর্শনীয় স্থান “শৈল প্রপাত”পর্যটন কেন্দ্র। বর্তমান “শৈলপ্রপাত” পর্যটন কেন্দ্রটির অবস্থা অত্যন্ত করুন, আগত পর্যটকদের জন্য পর্যটন কেন্দ্রটির অভ্যন্তরে একটি শৌচাগার থাকলেও তা এখন আর ব্যাবহার উপযোগী নেই। ঝর্ণার পানিতে হই হুল্লোল করার পর নেই বিশ্রামের জন্য ছাওনি। একটি মাত্র ছাওনি পর্যটন কেন্দ্রের অভ্যন্তরে থাকলেও পরিচর্যা ও রক্ষনাবেক্ষনের অভাবে হয়ে আছে অপরিচ্ছন্ন। তেমন নিরাপত্তা বেস্টনি না থাকায় বর্ষাকালে  ঝর্নার পানিতে পাথর পিচ্ছিল থাকায় যাতায়াতে পড়তে হয় অসুবিধায়।
শৈল প্রপাতের মূল ফটক থেকে শুরু করে এর ভিউ পয়েন্টের প্রত্যেকটা স্থাপনা সময়ের সাথে সাথে মলিন হয়ে গেছে। ঝর্ণার পানিতে সিড়ি দিয়ে নামার সময় নিতে হয় বাড়তি সতর্কতার।
আগত পর্যটকদের বিশেষ করে মহিলাদের পোশাক পরিবর্তনের জন্য আছে একটি চেঞ্জিং রুম। নোংরা আর অপরিচ্ছন্ন থাকার কারনে এখন এটিও তালা লাগানো। স্থানীয় বসবাসকারী লাল সাওনুয়াম বোম দীর্ঘদিন ধরেই শৈল প্রপাত পর্যটন কেন্দ্রের ছোট বাশের ছাউনির দোকান পরিচালনা করছেন। তিনি জানালেন, প্রতিদিনই অনেক পর্যটক এখানে আসে সৌন্দর্য দেখার জন্য, আমরা নিজেরাই মাঝে মাঝে ঝর্ণার পাশে, পড়ে থাকা বোতল সহ অন্যান্য অব্যবহৃত জিনিস পত্র পরিস্কার করে থাকি। সরকারি ভাবে পর্যটন কেন্দ্রটি সংস্কার করে তাদের স্থায়ী ভাবে পাকা দোকানের ব্যাবস্থা করলে দেখতেও সুন্দর লাগবে।
Leave A Reply

Your email address will not be published.