দৈনিক নবতান
জনতার সংসদ

BREAKING NEWS

মারাইতং পাহাড় ও দেবতাকুম ভ্রমনে মানতে হবে বিধিনিষেধ

0

সাইফুল ইসলাম: বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় মারাইতং জনপ্রিয় একটি দর্শনীয় স্থান। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ ফুট উঁচুতে মারাইতং পাহাড়। সেখানে তাঁবু খাঁটিয়ে ক্যাম্পিং (টেন্ট ক্যাম্পিং) ব্যাপক জনপ্রিয়। তবে স্পটটিতে মদ্যপান ও মারপিট এর ঘটনার কারনে তাঁবু খাঁটিয়ে টেন্ট ক্যাম্পিং নিষিদ্ধ থাকলে এবার নির্ধারিত অর্থ ও শর্ত সাপেক্ষে টেন্ট ক্যাম্পিং করতে পারবে পর্যটকরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পর্যটকদের জন্য কঠোরতা আরোপের মাধ্যমে চলতি সপ্তাহের যেকোন দিন থেকে ফের উন্মুক্ত হচ্ছে টেন্ট ক্যাম্পিং। মারাইতং চূড়ার নিরাপত্তার জন্য দুইজন আনসার বা বিডিপি সদস্য নিয়োগ, পর্যটক গাইড নিবন্ধন, পর্যটকদের জন্য রেজিষ্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ক্যাম্পিং করলে প্রতি রাতের জন্য একজন গাইডকে পর্যটকদের প্রদান করতে হবে ৯০০ টাকা। এর মধ্যে পর্যটকদের রাতে থাকা খাওয়া ও একজন গাইড থাকবে সাথে।
আরো জানা যায়, আলীকদম থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের চূড়ায় একটি বৌদ্ধজাদী বা প্যাগোডায় বৌদ্ধধর্মীয় মেলার আয়োজন ঘিরে ২০১৪ সাল থেকে এই ট্যুরিস্ট ক্যাম্প গড়ে উঠেছে। শীতের শুরু থেকে বর্ষার আগ পর্যন্ত এই তাঁবুবাস পর্যটন চলে। পাহাড়চূড়া থেকে মাতামুহুরি নদী, নদীর তীরে নকশিকাঁথার মতো ফসলের মাঠ, নীল আকাশের সঙ্গে পাহাড়ের মিতালি উপভোগ করা যায়। জ্যোৎস্না রাতে তাঁবু খাঁটিয়ে আড্ডামুখর রাতযাপন, অনিন্দ্যসুন্দর প্রকৃতি উপভোগ, বনভোজন বা বারবিকিউয়ের অভিজ্ঞতা যে পর্যটকের হয়েছে, তিনি বারবার ফিরে আসতে চান এ পাহাড়ে। গত ১০ ডিসেম্বর পর্যটকদের অসৌজন্যমূলক আচরণের কারণে মারাইতং চূড়ায় ক্যাম্পিং নিষিদ্ধ করে স্থানীয় প্রশাসন। আর এর ফলে স্থানীয় শতাধিক যুবক কর্মসংস্থান হারায়।
এই বিষয়ে মারাইতং বিহারাধ্যক্ষ উ উইচারা মহাথের বলেন, মিটিংয়ে গাইডদের নিবন্ধনসহ পর্যটকদের বিষয়ে বেশ কিছু নিয়ম আরোপ করা হয়েছে, আশাকরি টেন্ট ক্যাম্পিংয়ে আর কোন সমস্যা হবেনা।
এদিকে রবিবার বিকালে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার এর কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আতাউল গনি ওসমানী এর সভাপতিত্ব এই সংক্রান্ত বৈঠক হয়। এসময় জেলা পরিষদের সদস্য দুংড়িমং মার্মা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জামাল উদ্দিন, থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার তবিদুর রহমান, বিহারঅধ্যক্ষ উ উইচারা মহাথে সহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। এসময় গাইড ও পর্যটকদের জন্য এই নতুন সিদ্ধান্ত আরোপ করা হয়।
এ ব্যাপারে আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার তবিদুর রহমান বলেন, মারাইতং চূড়ায় কিছু ট্যুরিস্ট গাইড তাঁবুতে মদ ও গাঁজা বিক্রি ও নারী উত্ত্যক্তের কারণে পর্যটকদের টেন্ট ক্যাম্পিং সাময়িক বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। এবার কড়াকড়ি আরোপের মাধ্যমে তা উন্মুক্ত করা হবে।
বান্দরবান রোয়াংছড়ি উপজেলার বন্ধ থাকা দেবতাখুম পর্যটন কেন্দ্র পুনরায় চালু করার বিষয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।রবিবাির (২১জানুয়ারি) সকালে রোয়াংছড়ি উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি গালিব চৌধুরী এর সভাপতিত্বে উপজেলার ৩নং আলেক্ষ্যং ইউপির দেবতাখুম পর্যটন কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ বন্ধ থাকায় পুনরায় চালু করার বিষয়ে পর্যটন কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় উপস্তিত ছিলেন রোয়াংছড়ি সদর ইউপি চেয়ারম্যান , মেহ্লা অং মারমা ,আলেক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান, বিশ্বনাথ তংচংগ্যা,দেবতাখুম পর্যটন কেন্দ্র পরিচালনা কমিটি সভাপতি নচু মং মারমা সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ।
মতবিনিময় সভায় বান্দরবান জেলা প্রশাসকের প্রজ্ঞাপন জারির নির্দেশনা মোতাবেক আগামীকাল ২২ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখ হতে পর্যটন কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। একইসাথে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল হতে আগত পর্যটকগণ যেনো তাদের ব্যক্তিগত তথ্যাদি সংশ্লিষ্ট থানা এবং লিরাগাঁও সেনা ক্যাম্প কে অবগত করার পাশাপাশি টুরিস্ট গাইড সমিতিকে অবগত করে থাকে এই ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে তা নিশ্চিত করার বিষয়ে নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়াও পর্যটকগন দেবতামখুম ভ্রমণের ক্ষেত্রে তাদের সঠিক পথ প্রদর্শনের জন্য টুরিস্ট গাইড ব্যবহার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রেও নির্দেশনা প্রদান করেন। পরিশেষে দেবতাখুম পরিচালনা কমিটি কর্তৃক পর্যটকদের সাথে সোহার্দপূর্ণ আচার আচরণ সহ পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সহ আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয়ের উপর দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
প্রসঙ্গত গত ১৫ মার্চ ২০২৩ তারিখ হতে উপজেলায় পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল কেএনএফ এর অবাধ বিচরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে বর্ণিত পর্যটন কেন্দ্রটি পর্যটকের ভ্রমণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল ।

 

Leave A Reply

Your email address will not be published.