
সিঁদুর ঘোষ রাজকুমার | টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:
আসন্ন বাসাইল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আলোচনা শুরু হয়েছে। উন্নয়ন, সুশাসন এবং জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বের প্রশ্নে নতুন করে হিসাব-নিকাশ করছেন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। এর মধ্যেই বাসাইল উপজেলা বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা দলের সাবেক সফল সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. সোহরাব হোসেন মিয়াকে চেয়ারম্যান পদে দেখতে চেয়ে প্রকাশ্যে জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতার মূল্যায়ন দাবি: নেতাকর্মীদের মতে, ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন মিয়া দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থেকে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে দলকে শক্তিশালী করা, কর্মীদের মধ্যে ইস্পাতকঠিন ঐক্য গড়ে তোলা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। দলের চরম দুঃসময়ে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে তাঁর সাহসী ও সক্রিয় উপস্থিতির কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন তৃণমূলের কর্মীরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন নেতা বলেন, “দলের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ নেতাদের মূল্যায়ন করা হলে ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন মিয়া নিশ্চিতভাবেই মনোনয়নের প্রধান দাবিদার। তিনি অত্যন্ত কর্মীবান্ধব এবং সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্ত। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা থাকায় উপজেলার গ্রামাঞ্চলে তাঁর ব্যাপক ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তা রয়েছে।”
মডেল বাসাইল গড়ার রূপরেখা: নেতাকর্মীরা মনে করেন, বাসাইল উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী ও সমন্বিত পরিকল্পনা প্রয়োজন। ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন মিয়া নির্বাচিত হলে তাঁর নেতৃত্বে যে বিষয়গুলোতে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হবে বলে তারা আশাবাদী:
সড়ক ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
খাল-নদী পুনঃখনন এবং কৃষকদের জন্য আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তা নিশ্চিতকরণ।
বেকার যুবকদের জন্য বাস্তবমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
ডিজিটাল সেবার প্রসার ঘটিয়ে বাসাইলকে একটি আধুনিক ও 'মডেল উপজেলা' হিসেবে গড়ে তোলা।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনার প্রতিফলন: দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান বর্তমানে তৃণমূলকে শক্তিশালী করা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনসম্পৃক্ত নেতৃত্বকে এগিয়ে আনার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করছেন। সেই নীতির আলোকেই বাসাইলে ত্যাগী ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় নেতা হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন মিয়ার মূল্যায়নের দাবিটি আরও জোরালো হচ্ছে।
প্রার্থীর অবস্থান ও ভবিষ্যৎ চিত্র: এ বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, তিনি সর্বদা দলীয় সিদ্ধান্ত এবং আনুষ্ঠানিক মনোনয়ন প্রক্রিয়ার প্রতি সম্পূর্ণ আস্থাশীল।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণা করার পর বাসাইলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা ও সমর্থন আদায়ের তৎপরতা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং তখনই দলীয় মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত রূপ নেবে।