দৈনিক নবতান
জনতার সংসদ

ত্রাণ না পাওয়ার ভিডিও ছড়ানোয় দুই ভাই গ্রেপ্তার

0

ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী

ত্রাণ না পাওয়া মানুষদের ছবি ও ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোর পর রাজশাহীর পবা উপজেলায় দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- উপজেলার দর্শনপাড়া গ্রামের এন্তাজ আলীর ছেলে বোরহানুল ইসলাম মিলন (১৫) ও তারর বড় ভাই বাবু ওরফে মুন্না (২৮)। পুলিশ তাদের কারাগারে পাঠিয়েছে।

এর আগে ইন্টারনেটে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে শনিবার সন্ধ্যায় মোট তিনজনের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রযুক্তি আইনে মামলা করেন দর্শনপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) তিন নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাসান আলী। গ্রেপ্তার দুজনকে আটকে পুলিশেও তুলে দেন তিনি। অপর আসামি পলাতক রয়েছেন।

সন্ধ্যায় মুন্না থানায় পুলিশ হেফাজতে থাকাকালে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে দেয়া ত্রাণ সহায়তা একই ব্যক্তি বারবার পাচ্ছেন। তারা কষ্টে দিন কাটালেও ত্রাণ পাচ্ছেন না। বিষয়টি এলাকার সকলে জানে। কিন্তু কেউ ভয়ে মুখ খুলছে না। তবে তার ছোট ভাই বোরহানুল ইসলাম মিলন শুক্রবার বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন।

তিনি বলেন, স্ট্যাটাস দেয়ায় আমার ভাই মিলনকে শনিবার বেলা ১১টার দিকে মোবাইলে কল করে ইউনিয়ন পরিষদে যেতে বলেন চেয়ারম্যান কামরুল হাসান রাজ ও তিন নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাসান। সেখানে গেলে কেন স্ট্যাটাস দিয়েছে- তা জানতে চেয়ে তাকে মারধর করেন চেয়ারম্যান-মেম্বার। পরে তার বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর অভিযোগ করে কর্ণহার থানা পুলিশে দেন তারা।

বাবু আরও বলেন, বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। ত্রাণ না পাওয়া সকলে জড়ো হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এবং পরে থানার সামনে গিয়ে বিক্ষোভও করেন। সেসময় আমিও সেখানে ছিলাম। আমি বলি- আমার ভাই কোনো দোষ করেনি, তাকে ছেড়ে দেন। এতে পুলিশ আমাকেও থানায় নিয়ে আসে।

চেয়ারম্যান কামরুল হাসান বলেন, আমার ইউনিয়নে সরকারি যে সহায়তা এসেছিল, তা সুষ্ঠুভাবে বণ্টন করেছি। কিন্তু মিলন মিথ্যা ও ভুলভাল তথ্য ফেসবুকে ছড়িয়েছে। সেটা জিজ্ঞেস করতে তাকে ডেকেছিলাম। কিন্তু সে যা লিখেছে, তার প্রমাণ দিতে না পারায় থানায় অভিযোগ করে তাকে সোপর্দ করেছি। তবে মিলনকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।

কর্ণহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার আলী তুহিন বলেন, যারা বয়ষ্কভাতা পান তাদের ত্রাণ দেয়া হবে পরে। এরকম সরকারি নির্দেশনাও আছে। কিন্তু বয়স্কভাতার উপকারভোগীদের বক্তব্য ও বিক্ষোভ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে ফেসবুক ও ইউটিউবে ছড়ানো হয়েছিল। তারা ত্রাণ পাননি বা পাবেন না এ ধরনের গুজব ছড়ানোর অভিযোগে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

ওসি জানান, মিলন মূল আসামি। আরেক আসামি তার ভাই বাবু। আর পলাতক আসামি ঘটনার ব্যাপারে উস্কানি দিয়েছে। তাই তাকেও আসামি করেছেন ইউপি সদস্য। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Leave A Reply

Your email address will not be published.