দৈনিক নবতান
জনতার সংসদ

ঝিনাইগাতীতে এতিমদের জমি বেদখলের পায়তারায় লিপ্ত!

0

মোঃ আরিফুল ইসলাম শেরপুর জেলা প্রতিনিধি : শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে এতিমদের জমি বেদখল করে অন্যত্র বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের পায়তারার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের পুর্বগজারীকুড়া গ্রামে।

খোঁজ নিয়ে যানা যায়, পুর্বগজারীকুড়া গ্রামের মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে ছবর আলীর ৩ ছেলে যথাক্রমে কছর আলী, আব্দুল জলিল, আব্দুল করিম, ৩ মেয়ে যথাক্রমে নুরেজা বেগম, রুপ বেগম, সুজেদা বেগম এবং তার নামীয় জীবদ্দশায় বিক্রির পরে রেকডিও ৬৫ শতাংশ জমি রেখে মারা যান। যাহার খতিয়ান নং-৪৪, দাগ নং- ৫১২। বাবার মৃত্যেুর পর ওয়ারিস সুত্রে আব্দুল জলিল প্রাপ্ত হন ১৪.৪৪ শতক জমি। পরে ভাই কছর আলীর ১৪.৪৪ শতক এবং ৩ বোনের ২১.৬৬ শতাংশ জমি আব্দুল জলিল ক্রয় করেন। পরবতীতে নিজ অংশ এবং ১ ভাই ও ৩ বোনের কাছ থেকে ক্রয় জমি সহ মোট ৫০.৫৪ শতক জমির মধ্যে রফিকুলের নিকট ৪০, মোশারফের নিকট ৬ এবং ফজলুর রহমানের নিকট ৫ শতক সহ মোট ৫১ শতক জমি আব্দুল জলিল বিক্রি করেন। আব্দুল করিম ঢাকায় থাকার কারণে তার পৈত্রিক সুত্রে প্রাপ্ত ১৪.৪৪ শতক বাড়ী ও ফসলি জমি আব্দুল জলিলকে দেখাশুনার দ্বায়িত্ব দেন। এমতাবস্থায় ২০১৯ সালে আব্দুল করিম ১ স্ত্রী, নাবালক ২ ছেলে ২ মেয়ে রেখে মৃত্যেুবরণ করেন। আব্দুল করিমের মৃত্যেুর পর নাবালক সন্তানদের নিয়ে স্ত্রী সাবানা উক্ত ফসলি জমি ও বাড়ী ফেরত চাইলে, ভাসুর আব্দুল জলিল তা দিতে অস্বীকার করেন। বিধবা সাবানা এ বিষয়ে সমাজপতিদের দ্বারে দ্বারে ঘুড়ে বেড়ালেও কোন আশ্রয় হয়নি স্বামীর ভিটেতে। পরে বাধ্য হয়ে উপজেলার বনগাঁও গ্রামে বাবার বাড়ীর এক কুড়ে ঘরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। সাবানা তার এতিম সন্তানদের নিয়ে একদিকে মানবেতর জীবন যাপন অন্যদিকে স্বামীর জমি বেদখলের হাত থেকে রক্ষা করতে পারিবারিক আদালতের স্মরনাপন্ন হলে, নাবালক নাবালিকাদের পক্ষে আদালত কর্তৃক সাবানা অভিভাবক নিযুক্ত হইয়া উক্ত জমি বিক্রির অনুমতি প্রাপ্ত হন। আদালতের দেয়া ক্ষমতাবলে নাবালক নাবালিকার পক্ষে সাবিনা বেগম গত ০৮/০৩/২০২১ইং তারিখে স্থানীয় আলহাজ মো. হাইজ উদ্দিনের ছেলে নুরুল ইসলামের কাছে রেজিঃমুলে উক্ত জমি থেকে ১০ শতাংশ জমি রেজিঃ বায়নাপত্র করে দেন। নুরুল ইসলাম ১০ শতক জমি ক্রয়সুত্রে দখলপ্রাপ্ত হয়ে উক্ত জমিতে রুপা আমন ও মিশ্র মাছ চাষ করেন। এ অবস্থায় গত ১০ আগষ্ট/২০২১ইং তারিখ সকালে আব্দুল জলিল একটি কুচক্রী মহলের ঈঙ্গিতে উক্ত জমির মাছ ও ফসলের ক্ষতি করে এতিমদের জমি বেদখলের চেষ্টা করলে এলাকাবাসীরা আব্দুল জলিলকে বাধাঁ দেন। পরে আব্দুল জলিল বাদী হয়ে নুরুল ইসলাম সহ অন্যান্য ব্যক্তিদের নামে ঝিনাইগাতী থানায় একটি মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন। অপরদিকে রেজিঃ বায়নাপত্রের সুত্রে নুরুল ইসলাম উক্ত জমির মালিকসত্বা দিয়ে গত ১১ আগষ্ট শেরপুর এডিএম কোর্টে আব্দুল জলিল গংদের বিরুদ্ধে ১৪৪ ধারার মোকদ্দমা দায়ের করলে আদালত ওসি ঝিনাইগাতীকে উভয় পক্ষকে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা এবং এসিল্যান্ড ঝিনাইগাতীকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেন। যাহার পিটিশন নং- ২৫৬, তারিখ- ১১/০৮/২০২১ইং।

প্রকাশ থাকে যে, মৃত আব্দুল করিমের ৫১০ দাগের ২৩.৬৬ শতক, ৫০৮ দাগের ৭শতক, ৫১২ দাগের ৪.৪৪ শতক এবং আব্দুল করিমের ক্রয়কৃত ৫১১ দাগের ১শতক এবং ৫১২ দাগের ১৫.৬৬সহ মোট ৫১. ৭৬ শতক জমি স্ত্রী সাবানাসহ ২ পুত্র ২ মেয়ে মালিক। যাহা আব্দুল করিমের বড় ভাই আব্দুল জলিল উক্ত ৫১.৭৬
শতাংশ জমিও বেদখল করে অন্যত্র বিক্রি করে অথর্ আত্মসাতের অপচেষ্টায় লিপ্ত।

এ ব্যাপারে গৌরীপুর ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মন্টু বলেন, উল্লেখিত জমি সাবানাগংদের বিদ্যমান আছে, যাহা আব্দুল জলিল জোর করে বেদখলের চেষ্টায় লিপ্ত।

ঝিনাইগাতী থানার এসআই শ্রী কাজল চক্রবর্তী এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমি উভয় পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলেছি। কাগজের আলোকে প্রকৃত মালিককে জমি বুঝিয়ে দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে মৃত আব্দুল করিমের স্ত্রী সাবানা বলেন, আমার স্বামীর মৃত্যেুর পর স্বামীর বসতবাড়ী আর ফসলি জমি থাকার সত্বেও নাবালক ও শিশু ৩ টি ছেলে মেয়ে নিয়ে আমার বাবার বাড়ীতে মানবেতর ভাবে জীবন যাপন করছি। তার পরেও আমার ভাসুর আব্দুল জলিল আমার স্বামীর বসতবাড়ী ও ফসলি জমির ১৪ শতক জমি বেদখল করে রেখেছেন। আমি প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার চাই।

Leave A Reply

Your email address will not be published.