মোঃ আব্দুর রাজ্জাক
প্রকাশ : Mar 12, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

জাল সনদে চাকরি, তবুও দেওয়া হচ্ছে বেতন: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

স্টাফ রিপোর্টার, নওগাঁ: এনটিআরসিএ (NTRCA)-এর যাচাইয়ে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জাল প্রমাণিত হওয়ার পরও অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে সরকারি কোষাগার থেকে নিয়মিত বেতন-ভাতা দেওয়ার অভিযোগে নওগাঁর বীরজোয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জোনাব আলীর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) নির্দেশে বুধবার (১১ মার্চ) বিকেলে বিদ্যালয়টিতে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করেন নওগাঁ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহাদাৎ হোসেন।

জানা যায়, বীরজোয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের শিক্ষক বাবুল আকতার ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর এবং জীববিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষক কামরুজ্জামান ২০০৮ সালের ৩০ এপ্রিল জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে নিয়োগ পান। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তারা অবৈধভাবে সরকারি কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে আসছিলেন।

গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে এনটিআরসিএ-এর সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০০৬ সালের দ্বিতীয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার রোল ১১২২০০৫৪ নম্বরধারী বাবুল আকতার চৌধুরী ও রোল ৪২৬১৩২৭ নম্বরধারী কামরুজ্জামান মণ্ডলের দাখিল করা প্রত্যয়নপত্রের সাথে অফিসে সংরক্ষিত মূল ফলাফলের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। তারা উভয়েই জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জোনাব আলী অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি; বরং প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তাদের বেতন-ভাতা চালু রাখেন। পরবর্তীতে স্থানীয় এক ব্যক্তির লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয়।

এ বিষয়ে বীরজোয়ান উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জোনাব আলী বলেন, "জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্যার বিদ্যালয়ে তদন্তে এসেছিলেন। তিনি এ সংক্রান্ত সব কাগজপত্র নিয়ে গেছেন।"

তদন্তের বিষয়ে নওগাঁ জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. শাহাদাৎ হোসেন মুঠোফোনে 'দৈনিক নবতান'-কে বলেন, "জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক যাচাইয়ে ওই দুই শিক্ষকের সনদ ও সুপারিশপত্র জাল বলে প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও প্রতিষ্ঠান প্রধান তাদের বেতন-ভাতাদি চালু রেখেছেন, যা আমাদের প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন খুব শিগগিরই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) প্রেরণ করা হবে।"

 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সরিষাবাড়ীতে প্রাক বড়দিন ও বার্ষিক উপহার বিতরণ অনুষ্ঠান অনু

1

টাংগাইলের হাবলা ইউপি নির্বাচনে ব্যাপক প্রচারণায় সুমন খান: জ

2

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায়

3

কুড়িগ্রামের ৪ টি সংসদীয় আসনে ৩ টিতে জামায়াত ১ টিতে এনসিপির প

4

রান নেই–উইকেট নেই, তবু ম্যাচসেরা

5

ঝিনাইদহের সেই মানবিক চিকিৎসক প্রসেনজিৎ সহকারী অধ্যাপক

6

সিরিয়ার ২৫০ ছাগল চুরি করলো ইসরাইলি সেনারা

7

সরিষাবাড়ীতে জমি বিরোধে সংঘর্ষ: মারধর, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণাল

8

জামায়াত নেতার মৃত্যুতে সরিষাবাড়ীতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ

9

গার্ডিয়ান লাইফ ইন্স্যুরেন্সে অনন্য সাফল্য: বৃহত্তর ময়মনসিং

10

‘পরিচ্ছন্নতা শুরু হোক আমার থেকে’: বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার স্ব

11

গণপরিবহন পাবে পর্যাপ্ত তেল, উঠে যাচ্ছে রেশনিং পদ্ধতি: সেতুমন

12

নতুন পে-স্কেলে ৯০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির গুঞ্জন, স্পষ্ট করল কমিশ

13

ধনবাড়ীতে কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়, বন্ধে প্রশাসনের অভি

14

অতীতের রাষ্ট্রপরিচালকেরা দুর্নীতি করে আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েছেন

15

মেহেরবানি করে চাঁদাবাজি করবেন না, রাজশাহীতে কর্মী সম্মেলনে জ

16

খায়রুল কবির খোকন বললেন, ‘তারেক রহমানই সরকার পতন আন্দোলনের মা

17

সরিষাবাড়ীতে থানায় অভিযোগ দায়েরের ৮ দিনের মধ্যে চুরি যাওয়া

18

মধুপুরে পালবাড়ী গোরস্থান হাফিজিয়া মাদরাসায় দোয়া ও ইফতার মাহফ

19

সাংবাদিকদের দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন প্রদানের আহ্বান অনলাইন এডিট

20