নিজস্ব প্রতিবেদক | সরিষাবাড়ী (জামালপুর):
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে পৈত্রিক জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। জমিতে চাষাবাদে বাধা, ক্ষেতের ফসল নষ্ট এবং পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আমান উল্লাহ নামের এক ভুক্তভোগী। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের চর হরিপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চর হরিপুর গ্রামের মৃত নায়েব আলী মণ্ডলের চার ছেলের মধ্যে একজন হলেন ছলিম উদ্দিন মণ্ডল। ছলিম উদ্দিনের ছেলে আবেদ আলী মণ্ডল তার দাদা নায়েব আলী মণ্ডলের কাছ থেকে ১ একর ৫২ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। আবেদ আলী অবিবাহিত অবস্থায় মারা যান। তার মৃত্যুর আগে তার মায়েরও ইন্তেকাল হয়। মুসলিম ফারায়েজ বা উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, অবিবাহিত সন্তানের মৃত্যুর পর তার সম্পত্তির মালিক হন পিতা। সেই মোতাবেক আবেদ আলী মণ্ডলের মৃত্যুর পর সম্পত্তির একক মালিকানা লাভ করেন তার পিতা ছলিম উদ্দিন মণ্ডল।
পরবর্তীতে বিআরএস রেকর্ডের সময় ওই সম্পত্তি ছলিম উদ্দিন মণ্ডলের দ্বিতীয় পক্ষের সন্তান আব্দুস সালামের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। সেই সূত্র ধরে আব্দুস সালামের উত্তরসূরিরা পৈত্রিক সূত্রে জমিটি দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল ও নিয়মিত চাষাবাদ করে আসছেন।
অভিযোগ উঠেছে, নায়েব আলী মণ্ডলের অপর ছেলে সিরাজ মণ্ডলের বংশধরেরা সম্প্রতি ওই জমিতে অযৌক্তিকভাবে নিজেদের ভাগ দাবি করে তা দখলের পাঁয়তারা শুরু করেছেন। সিরাজ আলী মণ্ডলের উত্তরাধিকারী জহুরুল ইসলাম তাজেল, আকরাম হোসেন ও নান্নু মিয়াসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি পেশিশক্তির জোরে জমিতে প্রবেশ করে চাষাবাদে বাধা সৃষ্টি করছেন এবং ক্ষেতের ফসল নষ্ট করে দিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী ও ছলিম উদ্দিনের দ্বিতীয় পক্ষের উত্তরসূরি আমান উল্লাহ নিরাপত্তাহীনতার কথা জানিয়ে বলেন, “আইন অনুযায়ী আমরা এই জমির বৈধ মালিক। দীর্ঘদিন ধরে আমরা শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু প্রতিপক্ষ পেশিশক্তির দাপট দেখিয়ে জমি জবরদখলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমাদের চাষাবাদে বাধা দেওয়া হচ্ছে, ফসল নষ্ট করা হচ্ছে এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা পরিবার নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন পার করছি।”
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাচ্চু মিয়া বলেন, “জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও হুমকির বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এদিকে, চর হরিপুর এলাকায় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, জমি সংক্রান্ত বিরোধে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পেশিশক্তির ব্যবহার দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে এর স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন