জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় ১৮ বিঘা কৃষিজমি দখলের পাঁয়তারা, আবাদি ফসল নষ্ট এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বিন্যাফৈর গ্রামে দীর্ঘদিনের এই জমি সংক্রান্ত বিরোধ বর্তমানে চরম আকার ধারণ করেছে, যার ফলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরাজ করছে ব্যাপক উত্তেজনা।
বাদীর দাবি ও অভিযোগ: স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বিন্যাফৈর গ্রামের মৃত খন্দকার পাগুর ছেলে খন্দকার রফিকুল ইসলাম (রফিক) জমির মালিকানা দাবি করে আসছেন। তার দাবি অনুযায়ী, তাদের পূর্বপুরুষরা রেজিস্ট্রি হেবা-বিল-এওয়াজ ও সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে এই ১৮ বিঘা জমির মালিকানা অর্জন করেন। বিগত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে তারা জমিটি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল ও চাষাবাদ করে আসছেন এবং আরএস খতিয়ানেও তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রফিকুল ইসলামের অভিযোগ, একই গ্রামের মৃত মতি তালুকদারের ছেলে হাফিজুর তালুকদার ও শাহজাদা তালুকদারের নেতৃত্বে শিশু তালুকদার, রবিউল তালুকদার, হাবলু তালুকদার ও শাহজাহান তালুকদার জোরপূর্বক ওই জমি দখলের পাঁয়তারা করছেন। জমিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং জমিতে আবাদ করা মরিচ, ভুট্টা ও ধান নষ্ট করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় নিরুপায় হয়ে খন্দকার রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে হাফিজুর রহমানকে প্রধান বিবাদী করে ছয়জনের বিরুদ্ধে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরিষাবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আইনি লড়াই ও প্রতিপক্ষের বক্তব্য: ভুক্তভোগী রফিকুল ইসলামের দাবি, প্রতিপক্ষ ১৯৪২ সালের একটি কথিত নিলাম বিক্রির দলিলের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করছে, যা সম্পূর্ণ জাল। এ বিষয়ে পূর্বে আদালতে মামলা হলে সর্বোচ্চ আদালত তাদের (ভুক্তভোগীদের) পক্ষে ডিক্রি প্রদান করেন।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত প্রতিপক্ষের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা জানান, তাদের পূর্বপুরুষ নাসির উদ্দিন তালুকদার ১৯৪২ সালে নিলামের মাধ্যমে জমিটি ক্রয় করেন এবং তারাই এর প্রকৃত মালিক। তারা আদালতে পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে জালিয়াতির বিষয়টি সামনে আসে। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী নিখিল কুমার সাহার যুক্তি উপস্থাপনের পর পূর্ববর্তী রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি আপিল বিভাগে বিস্তারিত শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।
ভুক্তভোগী ও প্রশাসনের ভাষ্য: নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “আমরা বৈধ দলিল ও আরএস খতিয়ানভুক্ত মালিক। জোরপূর্বক আমাদের আবাদি ফসল নষ্ট করা হচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা চাই।”
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বাচ্চু মিয়া বলেন, “আবাদি জমি নষ্ট ও বেদখলের চেষ্টার অভিযোগে একটি লিখিত আবেদন আমরা পেয়েছি। যেহেতু বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন এবং জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে, তাই গভীরভাবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, দীর্ঘদিনের এই জমি বিরোধ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি মোড়ে দাঁড়িয়েছে। জালিয়াতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রকৃত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তারা আশা করছেন। তবে আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য করুন