নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ৮ নম্বর মিরাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফেজ মো. জিয়াউর রহমান (জিয়া)–এর দায়ের করা রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নে বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে জারি করা এক আদেশের মাধ্যমে উপজেলা আইসিটি কর্মকর্তাকে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়। পরবর্তীতে ওই আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাফেজ মো. জিয়াউর রহমান হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন।
রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ সংশ্লিষ্ট আদেশের কার্যকারিতা ৬ (ছয়) মাসের জন্য স্থগিতাদেশ প্রদান করেন এবং রুল জারি করেন। পাশাপাশি আবেদনকারীকে তার পদে বহাল থেকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশনা দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান রায়ের কপি সংযুক্ত করে ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদালতের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে আবেদন করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ইউপি-১ শাখা, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা রায় যাচাই-বাছাই শেষে ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কাছে একটি পত্র জারি করে। পত্রের স্মারক নং ৪৬.০০.৬৪০০.০০০.০১৭.২৭.০০০৩.২৫-১৩৭। এতে আদালতের আদেশ অনুযায়ী চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে, হাইকোর্টের আদেশ এবং মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা বাস্তবায়নে বিলম্ব করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম–এর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
জেলা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত পরিপত্র ও হাইকোর্টের রায়ের কপি জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মতামত চাওয়া হয়েছে।
রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, হাইকোর্টের রায় ও মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র পাওয়া গেছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আইসিটি কর্মকর্তাকে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা করা হচ্ছে।
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রানীনগর) আসনের সংসদ সদস্য শেখ রেজাউল হাসান বলেন, আইনের প্রতি প্রত্যেক নাগরিকের শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত। আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। তবে হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়নে বিলম্বের বিষয়টি তার জানা নেই।
হাইকোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী মো.শাহরিয়ার ভূঁইয়া বলেন, আদালতের রায়ের আলোকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নির্দেশনা প্রদান করেছে। এরপরও বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়া বোধগম্য নয়। দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে তা আদালত অবমাননার পর্যায়ে পড়তে পারে এবং প্রয়োজনে কনটেম্পট পিটিশন দায়ের করা যেতে পারে।
চেয়ারম্যান হাফেজ মো. জিয়াউর রহমান (জিয়া) বলেন, তিনি হাইকোর্ট থেকে ন্যায়বিচার পেয়েছেন এবং মন্ত্রণালয় থেকেও দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে তিনি জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দ্রুত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, হাইকোর্টের রায় দ্রুত বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগীসহ সংশ্লিষ্ট মহল।