ধনবাড়ী টাংগাইল প্রতিনিধি :
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ভোক্তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি ফিলিং স্টেশনে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ নূরজাহান আক্তার সাথী। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুর আড়াইটায় ‘ধনবাড়ী ফিলিং স্টেশন’-এ জ্বালানি তেলের মজুত, বিক্রয় পদ্ধতি এবং সার্বিক কার্যক্রম তদারকি করতে এই অভিযান চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে অভিযোগ উঠছিল যে উক্ত ফিলিং স্টেশন থেকে ড্রাম ও ক্যানের মাধ্যমে খোলা বাজারে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে, যা সরকার নির্ধারিত নীতিমালার পরিপন্থী। এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতেই ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে উপস্থিত হন।
অভিযান চলাকালে ইউএনও নিজেই ফিলিং স্টেশনের আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক খুলে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের মজুত পরিস্থিতি সরাসরি পরিদর্শন করেন। এ সময় স্টেশনের ম্যানেজার রবিন হোসেন উপস্থিত থেকে প্রতিটি ট্যাংকের জ্বালানির মজুত, সংরক্ষণ ও সরবরাহ সংক্রান্ত বিস্তারিত হিসাব প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেন।
ড্রাম বা ক্যানে তেল বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ম্যানেজার রবিন হোসেন জানান, স্থানীয় ইটভাটাগুলোর বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি— যেমন বায়ু মেশিন, ভেকু ও মিক্সার মেশিন চালানোর জন্য নিয়মিত বিপুল জ্বালানির প্রয়োজন হয়। মূলত সেই কারিগরি প্রয়োজন মেটাতেই ভাটা মালিকরা ফিলিং স্টেশন থেকে ড্রামে করে তেল সংগ্রহ করে থাকেন।
ম্যানেজারের এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ইউএনও মিজ নূরজাহান আক্তার সাথী স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, "ইটভাটা মালিকদের ড্রামে তেল নিতে হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করতে হবে। তারা যে বৈধ কাজে এবং সরকারি বিধি মেনেই জ্বালানি সংগ্রহ করছেন, তা সেখানে উল্লেখ থাকতে হবে।" এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভাটা মালিকদের দ্রুত অবহিত করতে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন তিনি।
এদিকে, অভিযানকালে ফিলিং স্টেশনে উপস্থিত কয়েকজন পরিবহন চালক জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে এখান থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন এবং এখানকার পরিমাপ ও সেবার মানে তারা সন্তুষ্ট। তাদের মতে, স্টেশনটি নিয়মিতভাবেই গ্রাহকদের চাহিদা পূরণ করে আসছে।
অভিযান শেষে ইউএনও মিজ নূরজাহান আক্তার সাথী বলেন, “সরকার নির্ধারিত নিয়মনীতি মেনেই ফিলিং স্টেশন পরিচালনা করতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা ভোক্তা স্বার্থবিরোধী কার্যক্রম বিন্দুমাত্র বরদাশত করা হবে না। ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা করা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদের সুষ্ঠু পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনায় সহায়তা করাও আমাদের কর্তব্য। সবাই নিয়ম মেনে চললে প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে থাকবে।”
পরিদর্শন শেষে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষকে ভবিষ্যতে সকল কার্যক্রমে আরও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নীতিমালা অনুসরণের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়। প্রশাসনের এই আকস্মিক তদারকিকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, এ ধরনের নিয়মিত অভিযান জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখবে এবং ভোক্তাদের অধিকার ও আস্থা আরও সুদৃঢ় করবে।
মন্তব্য করুন