নিজস্ব প্রতিবেদন:
আজ বুধবার পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম ও ওফাতের স্মৃতিবিজড়িত দিনটি যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পালন করছেন বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।
ইসলামি বর্ণনা অনুযায়ী, ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে আরবি বর্ষের রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখে মক্কার কুরাইশ গোত্রে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। ৪০ বছর বয়সে তিনি নবুয়ত লাভ করেন এবং দীর্ঘ ২৩ বছর ইসলামের শান্তি, সাম্য, ন্যায় ও মানবিকতার বাণী প্রচার করেন।
মহানবী (সা.)-এর জীবন ছিল সত্যবাদিতা, আমানতদারি, ক্ষমাশীলতা, দানশীলতা ও সহিষ্ণুতার অনন্য দৃষ্টান্ত। মক্কার সমাজে বিরাজমান অন্যায়-অবিচার ও পাপাচারের বিরুদ্ধে তিনি মানুষকে ন্যায় ও সত্যের পথে আহ্বান জানান। পরে মদিনায় তিনি একটি কল্যাণভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে কোরআনখানি, মিলাদ মাহফিল, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনেকে নফল নামাজ আদায় ও রোজা রাখছেন। রাজধানীর বিভিন্ন প্রধান সড়কও কালেমাখচিত পতাকা ও জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে।
এ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসী ও মুসলিম উম্মাহকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তারা মহানবী (সা.)-এর শান্তি, ন্যায়, সহনশীলতা, ভালোবাসা ও মানবিকতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে হিংসা-বিদ্বেষ, বিভেদ ও অন্যায় পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শান্তি, সম্প্রীতি, সাম্য ও মানবিকতার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। এদিন সংবাদপত্রও প্রকাশিত হবে না। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠন দিনটি উপলক্ষে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আয়োজনে মঙ্গলবার বাদ মাগরিব থেকে পক্ষকালব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আয়োজিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে শান্তি, ন্যায়, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে দিনটি পালন করছেন মুসলমানরা।
মন্তব্য করুন